আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম। এখানে নিয়মিত সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি এবং বিভিন্ন ধরণের শিক্ষামূলক পোস্ট শেয়ার করা হয়। চাকরির আপডেট পেতে ও নতুন কিছু জানতে ও শিখতে নিয়মিত আমাদের সাইট ভিজিট করুন। ধন্যবাদ। ***

বিসিএস ক্যাডার কি? কেন বিসিএস পড়তে হবে?

বিসিএস ক্যাডার কি? কেন বিসিএস পড়তে হবে?

প্রিয় ভাই ও বোনেরা আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি আপনার সবাই ভালো আছেন।


আমাদের আজকের পোস্টের বিষয়ঃ বিসিএস ক্যাডার কি? কেন বিসিএস পড়তে হবে? কেন বিসিএস এর এত দাম, বিসিএস এর ক্যাটাগরিগুলো কি কি ইত্যাদি। তো আসুন বিস্তারিত জেনে নেই:-

পোস্টটি পড়তে বিরক্তবোধ করলে লিংকে ক্লিক করে ইউটিউব থেকে আমাদের ভিডিওটি দেখে নিতে পারেনঃ https://www.youtube.com/watch?v=y6HK_4szV3s

বিসিএস পরীক্ষা বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা হল দেশব্যাপী পরিচালিত একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে আপনি বিসিএস ক্যাড়ার হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকবেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে সবচেয়ে সম্মানি এবং সবচেয়ে বড় পদের চাকরি হল বিসিএস ক্যাড়ার পদের চাকরিগুলো। তাই সবারই স্বপ্ন থাকে বিসিএস ক্যাড়ার হওয়ার। বাস্তবে এই স্বপ্ন পূরণ করা অনেক কঠিন, তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশোনা এবং অধ্যবসায়।

বিসিএস পরীক্ষা কি?
বিসিএস এর পুরো অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস। আর বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে এই সিভিল সার্ভিসে ঢোকার জন্যে যে পরীক্ষা দেওয়া হয় সেইটা। যা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) কর্তৃক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৬ পদে কর্মী নিয়োগের জন্য পরিচালিত হয়। বিসিএসের পদ আগে ছিল ২৭টি, ২০১৮ সালে ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে একত্রিত করে, তাই বর্তমানে ২৬ পদে ক্যাডার নিয়োগ হয়। বিসিএস পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়- প্রাথমিক পরীক্ষা (এমসিকিউ), তারপর লিখিত পরীক্ষা এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষা (ইন্টারভিউ)। পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১.৫ থেকে ৪ বছর সময় লাগে থাকে।

বিসিএস মানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস, এখন যদি মনে আসে তাহলে সিভিল সার্ভিস টা আবার কি? তো চলুন দেখি সিভিল সার্ভিস জিনিসটা কি?
সিভিল সার্ভিস হচ্ছে সরকারী চাকুরি। যে কোন দেশে সরকারী চাকুরি মোটামুটি দু ভাগে বিভক্তঃ মিলিটারি আর সিভিল। মিলিটারি বলতে আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স বোঝায়, আর সিভিল সার্ভিস বলতে প্রশাসন (মানে যাঁরা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলার ডিসি, মন্ত্রনালয়ের সচিব এসব হন তাদেরকে বুঝায়) আরও আছে পুলিশ, ট্যাক্স , পররাষ্ট্র, কাস্টমস ,অডিট , শিক্ষা ইত্যাদি ২৬টি সার্ভিস নিয়ে হল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস। এবার আশা করি বুঝতে পারছেন।

সিভিল সার্ভিস তো বুঝলাম। তবে এদেরকে আবার ক্যাডার বলার কি আছেঃ এমন প্রশ্ন থাকলে, তবে জেনে নিন বিসিএসধারীদের ক্যাডার বলার সু-নির্দিষ্ট কারন আছে। তো চলুন দেখি ক্যাডার কেন বলে।
ক্যাডার মানে হচ্ছে কোন সুনির্দিষ্ট কাজ করার জন্যে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল। সরকারী চাকুরির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়, তাই এদের সিভিল সার্ভিস ক্যাডার বা বিসিএস ক্যাডার বলা হয়।

বিসিএস অফিসারদেরকে প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড অফিসার বলা হয়। তার কারন হলঃ ?
বাংলাদেশ সরকারের চাকুরিতে চারটি শ্রেণি আছে, যার সর্বোচ্চ শ্রেণিটাকে বলা হয় প্রথম শ্রেণি বা ফার্স্ট ক্লাস। এদের নিয়োগের সময় সরকারী গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি বের হয়, স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় মান মর্যাদা, দায়িত্ব-কর্তব্যের পরিধি এবং সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসারগণ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকেন।

ক্যাডার কত প্রকার?
বিসিএস ক্যাডার মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
১৪ টি সাধারণ ও ১২ টি পেশাগত/কারিগরি, সর্বমোট ২৬ টি ক্যাডার রয়েছে
১) জেনারেল বা সাধারণ ক্যাডার (প্রশাসন,আনসার,নিরীক্ষা ও হিসাব,সমবায়,শুল্ক ও আবগারি,পরিবার পরিকল্পনা,খাদ্য,পররাষ্ট্র,তথ্য,পুলিশ, ডাক,রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক,কর,বাণিজ্য,ইকোনমিক (যা আর বর্তমানে নেই));
২) টেকনিকাল বা প্রফেশনাল ক্যাডার(সড়ক ও জনপদ,গণপূর্ত , জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ,বন,স্বাস্থ্য,রেলওয়ে প্রকৌশল,পশুসম্পদ,মৎস্য,পরিসংখ্যান,কারিগরি শিক্ষা,কৃষি,সাধারণ শিক্ষা )।

জেনারেল ক্যাডারে যে কেউ যে কোন সাবজেক্ট থেকে পরীক্ষা দিয়ে চাকুরি করতে পারেন, কিন্তু টেকনিকাল ক্যাডারে চাকুরি করতে হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা লাগবে।

বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি?
উত্তরঃ- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, নির্দিষ্ট বয়স সীমার ভেতরে বয়স থাকতে হবে।
যেকোন বিষয়ে চার বছরের অনার্স বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তিন বছরের অনার্স ও এক বছরের মাস্টার্স করা প্রার্থীরাও পরীক্ষা দিতে পারবেন। বিদেশে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীরাও শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে তাদের ডিগ্রি বাংলাদেশের চার বছরের ডিগ্রির সমান- এই সার্টিফিকেট দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শিক্ষা জীবনে একের অধিক তৃতীয় শ্রেণি (3rd Class) থাকলে বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের অযোগ্য। ইংলিশ মিডিয়ামের / মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরাও পরীক্ষা দিতে পারবেন।

সিভিল সার্ভিসের মেডিকেল টেস্ট কেমন হয়?
সিভিল সার্ভিসের মেডিকেল টেস্ট একেবারেই সাধারণ এবং বেসিক হয়, যে কোন সরকারী হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন। আপনার যদি অতি গুরুতর কোন সমস্যা না থাকে, সেক্ষেত্রে বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। পুলিশের মেডিকেল টেস্ট বাকি সব ক্যাডারদের মতই হয়, আলাদা না। শুধুমাত্র উচ্চতা আর ওজনে পার্থক্য আছে কিছুটা। পুলিশের ক্ষেত্রে চোখের নিয়ম হচ্ছে, আপনার চোখ যাই হোক না কেন, যদি চশমা পরার পর সেটা ৬/৬ হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই।

এইছিল বিসিএস সর্ম্পকিত কিছু তথ্য। আশা করি আপনি বিসিএস সর্ম্পকে কিছুটা ধারনা পেয়েছেন। কথা হবে অন্য কোন দিন অন্য কোন টপিক নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top